বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধায় ৪৩৮ বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

গাইবান্ধায় এগিয়ে চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও মনোযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

জানা যায়, জেলার গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ দুই উপজেলার ৪৩৮টি বিদ্যালয়ে চলছে এ কর্মসূচি।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) আওতায় দুই উপজেলার মোট ৪৩৮টি বিদ্যালয়ে ৫৮ হাজার ৭৩৮ জন শিক্ষার্থী ৯০ শতাংশ হারে খাবার পাচ্ছে। খাবারের মধ্যে রয়েছে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা। এছাড়াও খাবারের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে দুধ ও বিস্কুট। খাবার সরবরাহের জন্য ১৮৮ জন স্কুল মাদার নির্বাচন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২২২টি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর ৯০ শতাংশ হারে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং পলাশবাড়ী উপজেলার ২১৬টি বিদ্যালয়ে ৯০ শতাংশ হারে ২৪ হাজার ১৭৩ জন শিক্ষার্থী ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।

বেড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাফিউল সিদ্দিকী জানান, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর পর শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। উপস্থিতির হারও বেড়ে গেছে। আগে বিদ্যালয়ে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও এখন তা বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

এনএইচ মডার্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. নাজমা সুলতানা বলেন, এ কর্মসূচির ফলে ড্রপআউট বাচ্চারা স্কুলমুখী হচ্ছে এবং উপস্থিতির হার বেড়ে গেছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগে উন্নীত হবে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টায় খাবার সরবরাহ করা হয়।

পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি অধিদপ্তর কর্তৃক খাদ্য নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন মা, একজন অভিভাবক সদস্য (বাবা) এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জেলা ম্যানেজার আবু ওয়ালিদ বলেন, জেলার দুই উপজেলার পাশাপাশি চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সময়মতো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিশু খালি পেটে স্কুলে আসত। এতে ক্লাসে তাদের মনোযোগ কম থাকত। এখন স্কুলেই খাবার পাওয়ায় শিশুরা ক্লাসে বেশি মনোযোগী হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ রায় বলেন, জেলার দুই উপজেলায় ৪৩৮টি বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বাকি পাঁচ উপজেলায়ও দ্রুত এ কর্মসূচি শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এই সম্পর্কিত আরো খবর