নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামাণিক। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স আরও বেশি। যদিও এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বার্ধক্যের কারণে শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও আব্বাস প্রামাণিকের চোখের দৃষ্টি এখনও ভালো। পরিবারের দাবি, তিনি নিয়মিত নামাজ আদায় করেন এবং চশমা ছাড়াই খালি চোখে কোরআন শরিফ পড়েন। তবে কানে কিছুটা কম শোনেন তিনি।
আব্বাস প্রামাণিকের বাড়ি গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন আব্বাস প্রামাণিক। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকায় ছেলে-মেয়েদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দিতেন। দীর্ঘ জীবনে ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ও দেখেছেন তিনি। তবে বয়সের ভারে শত বছরের অনেক স্মৃতিই এখন আর তাঁর মনে নেই।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল তাঁর প্রিয় খাবার। একসময় অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে ভাঙা একটি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। নাতি ও নাতির বউরা তাঁর দেখাশোনা করেন। বয়স হলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন আব্বাস প্রামাণিক। সহযোগিতা ছাড়াই নিজে কাপড় পরিধান করেন।
জীবনে বিলাসিতা পছন্দ করতেন না আব্বাস প্রামাণিক। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি সাধারণত পায়ে হেঁটেই চলাচল করতেন এবং যানবাহনে চড়াকে বিলাসিতা মনে করতেন।
নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত বয়সের চেয়েও তাঁর দাদার বয়স বেশি। তিনি সারাজীবন সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন। কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি এবং সৎভাবে জীবন কাটিয়েছেন। বর্তমানে বয়সের কারণে আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না।
মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, পাঁচ বছর বয়সে তাঁর মা মারা যান। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন তারা। তাঁর ভাষ্য, বাবা কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি এবং সবসময় সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন। বর্তমানে ভাইয়ের ছেলেদের কাছে থাকেন আব্বাস প্রামাণিক। তারাই তাঁর দেখাশোনা করেন। সন্তানরা সুযোগ পেলেই বাবাকে দেখতে যান এবং তাঁর পছন্দের খাবার নিয়ে যান।
আলিমা বেগমের দাবি, এত বয়সেও তাঁর বাবা চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তে পারেন। সন্তানদের অনেকেই এখন চোখের সমস্যায় ভুগলেও বাবার দৃষ্টিশক্তি এখনও তুলনামূলক ভালো বলে জানান তিনি।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমদা আফেরাজ জানান, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ একজন ব্যক্তি। বয়সের কারণে তাঁর চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছে। তাঁর চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরের সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খুবিজপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এই বাংলা/এমএস