নিয়োগে জাল স্বাক্ষর, ভুয়া চিঠি ও জাল নিয়োগ বোর্ড গঠনের অভিযোগে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার একটি মাদ্রাসার সুপার মো. ইস্কেন্দার মির্জার বেতন-ভাতা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
২ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সোনারীপাড়া মীম ছীন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইস্কেন্দার মির্জার আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা স্থগিত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
জানা গেছে, ওই মাদ্রাসায় ‘মো. মাসুদ রানা’ নামে এক ব্যক্তিকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তার নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাইয়ের সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অসংগতি ধরা পড়ে।
অধিদপ্তরের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে চিঠি তৈরি করা হয়। পরে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মাসুদ রানার এমপিওভুক্তির আবেদন বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সুপার ইস্কেন্দার মির্জার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ইস্কেন্দার মির্জা বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই ডিজি প্রতিনিধি, চিলমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তার বেতন কেন স্থগিত করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
এর আগে গত ২৯ জুন একই ধরনের অভিযোগে চিলমারীর আরও তিন মাদ্রাসা প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়। তারা হলেন—রাজারভিটা ইসলামিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুর ইসলাম, কুটিরগ্রাম এম এইচ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মাহফুজার রহমান খন্দকার এবং চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা প্রধানকে চিঠি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এই বাংলা/এমএস