বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট, বাড়তি দামে কিনে বিপাকে প্রান্তিক কৃষক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রোপা আমন মৌসুমে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে তাঁদের।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত না খোলা, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য এবং গুদাম ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীতে প্রায় ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কৃষকদের সার সরবরাহের জন্য উপজেলায় ১০ জন বিসিআইসি ও সাতজন বিএডিসি ডিলার রয়েছেন। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৪৫ টন সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে শিলখুড়ি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ১১৯ দশমিক ৯ টন।

তবে কৃষকদের দাবি, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমন ধান রোপণের পর নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

পাগলার হাট এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। ধান রোপণের ২১ দিনের মধ্যে সার দেওয়ার কথা থাকলেও ২৬ দিনেও তিনি সার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনেছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কোনো কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে সার আসার খবর পেয়ে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কৃষক জড়ো হন। এতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে সার না থাকায় খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হয়।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, কয়েকজন ডিলারের মূল গুদাম সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে হওয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত সার পাওয়া যায় না। এ ছাড়া বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে বিএডিসি ডিলারকে সার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সার সংকট নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে গত ২৩ আগস্ট শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কৃষকেরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভূরুঙ্গামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আজিম বলেন, ২৩ আগস্ট রাতে সার ডিলার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ২৪ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় মোট সারের ঘাটতি নেই। তবে ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্যের কারণে শিলখুড়ি ইউনিয়নে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগে ডিলারদের প্রায় সমানভাবে সার দেওয়ার কারণে শিলখুড়ি ইউনিয়নে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পৌঁছাত। এখন অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে শিলখুড়িতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে কৃষকদের দাবি, শুধু বরাদ্দ সমন্বয় করলেই হবে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা, বরাদ্দ অনুযায়ী সার পৌঁছানো এবং সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, সারের গুদাম থেকে নেওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরো খবর