ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের প্রধান ডাকঘর ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, ১৯৯২ সালে নির্মিত ভবনটি নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে একবার সংস্কার করা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। ফলে ভবনের অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বর্ষা মৌসুমে ভবনটির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাকঘরের সামনের পুরো প্রাঙ্গণ হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে। বাইরে বৃষ্টি হলেই ভবনের ছাদ চুইয়ে অবিরাম পানি পড়ছে। টেবিলে রাখা সরকারি নথিপত্র ভিজে যাচ্ছে, মেঝেতে পানি জমে কর্দমাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পানির মধ্যেই বসে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় পোস্টমাস্টারকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে আসবাবপত্রও প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ডাকঘরে সেবা নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহক জানান, বৃষ্টির সময় অফিসের ভেতর ও বাইরে পানি জমে যায় এবং ছাদ থেকে অবিরাম পানি পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে হয়, যা অত্যন্ত দুর্ভোগের। তারা দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কাঁঠালিয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. দ্বীন ইসলাম বলেন, “বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে, আবার কখন পুরো ভবন ধসে পড়ে—সেই শঙ্কা নিয়েই দায়িত্ব পালন করছি।”
কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হবে। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র আদান-প্রদানে এখনও ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ উপজেলার প্রধান ডাকঘরটি বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটির সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক