শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে মাওলানা ইসলামাবাদীর অবদান চিরস্মরণীয়: মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সংস্কারে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নারীশিক্ষার প্রসার, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে ইসলামাবাদীর ভূমিকা ছিল অনন্য। তাঁর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক ও প্রখ্যাত মনীষী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা এ সভার আয়োজন করে।

মেয়র বলেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী কেবল আলেম বা রাজনীতিবিদই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়কে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি আজীবন কাজ করেছেন। অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন, অহিংস মতাদর্শের চর্চা এবং মুক্তবুদ্ধির বিকাশেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি আরও বলেন, অবিভক্ত বাংলা ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে ইসলামাবাদীর অবদান ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

মেয়র বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামাবাদী বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সমাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, ইতিহাস, আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞান শিক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। একটি শিক্ষিত, উদার ও জ্ঞাননির্ভর জাতি গঠনে তাঁর চিন্তা ও কর্ম আজও প্রাসঙ্গিক।

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন এস এম সালাউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির এবং চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

সভায় বক্তব্য দেন কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মোর্শেদ হোসেন, সহসভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ ও মুজিবুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. পারভেজ ইকবাল শরীফ, সহসাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক প্রকৌশলী জাবেদ আবছার চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক ড. মো. সানা উল্লাহ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলী নূর, প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদক ওয়াকিল আহমদ সিকদার, অ্যাডভোকেট মো. আকতার, আলহাজ এমদাদুল আজিজ চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী, হুমায়ুন খান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ এম এস ইসলামাবাদী (গাজী), মোতোয়াল্লি সদস্য আজাদ উল্লাহ খান, দাতা সদস্য নুরুল আলম, প্রধান শিক্ষক মো. আবু জহুর এবং কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বদিউল আলম রিজভীসহ অন্যরা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর