পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকায় বন্দোবস্তকৃত কৃষিজমির দখল নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা, মারধর ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসা জমি থেকে তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. বশির হাং জানান, তিনি চরবাংলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভূমিহীন কৃষক। তাঁর দাবি, চলতি বছর নতুন বাংলার দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০ একর জমিতে চাষাবাদ ও বীজ রোপণ করেন তিনি। পরে চরবিশ্বাস এলাকা থেকে এনিমের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রলারে করে এসে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বশির হাং জানান, হামলার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে লোকজন আসেন এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হয়। তবে ৯৯৯ থেকে তাঁকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরদিন গলাচিপা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁর দাবি, মামলা দায়েরের পর প্রতিপক্ষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে।
বশির হাওলাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি জমিতে মাটি কাটতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। শাহজাহান নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাখা এবং জমির মালিকদের দলিলপত্র, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ ছাড়া ৭০ থেকে ৯০ বছর বয়সী কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আহত ব্যক্তিদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ইউসুফ মাতব্বর (৭০), লোকমান সরদার (৫৫), আকেল প্যাদা (৮০), ওসমান (৮০) ও মনাত ফরাজীর (৭৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শর্মিলা হোসাইন দোলন তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বশির হাওলাদার আরও জানান, ঘটনার রাতে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা মামলা নেওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। পরদিন বন্দোবস্তকৃত জমির মালিক মো. ইউসুফ মাতব্বর বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরদিন গলাচিপা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে বন্দোবস্তকৃত জমির মালিকানার দাবিতে মানববন্ধন করা হয় বলে তিনি জানান।
বশির হাওলাদারের অভিযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিমালিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, জমির প্রলোভন দেখানো এবং সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. সোলায়মান বলেন, চরবাংলায় তাঁর বন্দোবস্তকৃত জমি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি নিজের জমি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে চরবাংলায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের ব্যানারে ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ মাহমুদ নকিব ও মো. মামুন প্যাদাকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদ জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের আখ্যায়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমির মালিকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
বক্তব্যের শেষাংশে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক ও গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বন্দোবস্তকৃত জমি ফিরে পাওয়া, জমির ওপর নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানও কামনা করেন।
এই বাংলা/এমএস