পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে রাজাপুরের খালে, উপকৃত হচ্ছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ
এইবাংলা অনলাইন
প্রকাশকালঃ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
একসময় পলি, ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ হারিয়েছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল। বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। সরকারের উদ্যোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের ফলে এখন ফিরেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এতে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি)’ এবং ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঁচটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এর মধ্যে শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ি হয়ে কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
এছাড়া সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার ৮০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ টাকা, যা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ সুফল পাবেন।
রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ১২ হাজার ৫০ জন। একই ইউনিয়নের তুলাতলি এলাকার ২ হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন।
এছাড়া রাড়িবাড়ি খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। এতে আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ উপকৃত হবেন।
স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরেছে, সৃষ্টি হয়েছে দেশীয় মাছের আবাসস্থল। একই সঙ্গে দৈনন্দিন কাজে পানির ব্যবহার সহজ হয়েছে এবং খালের দুই পাড় দিয়ে চলাচলের সুবিধা বাড়ায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রিপন সিকদার, কাদের সিকদার ও করিম বলেন, আগে সেচের পানির অভাবে চাষাবাদে বড় ধরনের সমস্যা হতো। এখন সহজেই পানি পাওয়া যাবে, ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি, মনিকা রায় ও শেফালি বেগম জানান, খাল ভরাট থাকায় রান্না, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির সংকট ছিল। পুনঃখননের পর সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয় এবং দেশীয় মাছের আবাসস্থল সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা কমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু পুনঃখনন করলেই হবে না; খালগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও পলি জমে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জানান, বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান,
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।