কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ৯ জন ব্যক্তি এখনও দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার সকালে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভেন্দুরচর সীমান্ত এলাকায় ওই ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন।
ঘটনার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে উভয় বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে দেখে তারা উদ্বিগ্ন। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুর রহমান বলেন, “রোববার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যাচাই-বাছাই ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অপেক্ষায় রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক