রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ফি ও বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

খবর পেয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত, জেলা শিক্ষা অফিসার রোস্তম আলী হেলালী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহার আলী ঘটনাস্থলে আসেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বোর্ডের নির্ধারিত ফি অনুসরণ না করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে বোর্ড ফি ২৩৩ টাকা এবং অষ্টম শ্রেণিতে ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৩০০ ও ৪০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত ফি ৯৮ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা।

এ ছাড়া বার্ষিক ভোজ ও টিফিন বরাদ্দের নামেও বড় অঙ্কের অর্থের অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেওয়া হয় না। টিফিন হিসেবে বিস্কুট দেওয়া হলেও ভাউচারে বার্গারের হিসাব দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, মাত্র সাড়ে ৯ টাকা মূল্যের টিফিন কিনে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখানো হয়েছে।

তারা আরও জানান, পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও দুই বছর পার হলেও এখনো পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের আইসিটি ফান্ডে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এসব খাতে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়া গত পাঁচ বছর ধরে ম্যাগাজিন প্রকাশনার জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। বিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই এবং টয়লেটও অপরিষ্কার থাকে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অভিভাবক জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অভিভাবকরা অতিষ্ঠ। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিফিনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা আদায় করা হলেও নাস্তার মান খুবই নিম্নমানের, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত বলেন, ঘটনাটি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেউ ভুল তথ্য উপস্থাপন করে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর