শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ভোলাহাটে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, গুরুতর আহত যুবক

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পূর্ববিরোধের জেরে একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আহত যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়ইগাছী এলাকার বাসিন্দা মো. সানাউল্লাহ (৫৫) প্রতিবেশী কয়েকজনসহ ৮-৯ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাড়ির পাশের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে সানাউল্লাহর পরিবারের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে অভিযুক্তরা লোহার রড, লোহার সাবল, ধারালো হাসুয়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাঁর বাড়ির সামনে উপস্থিত হন।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির প্রধান দরজা বন্ধ করে দিলে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, বাড়িতে প্রবেশের পর হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে সানাউল্লাহর ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর ছেলে ফয়সাল গুরুতর আহত হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ফয়সালকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তিনি দ্রুত মাথা সরিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরের শোকেসের ড্রয়ারে রাখা নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ফয়সালকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী মো. সানাউল্লাহ। এ বিষয়ে তিনি ভোলাহাট থানার পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. এত্তাজ আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত ০১৭৩০৯৬৩৯৮৭ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর