বরগুনার বেতাগীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের চেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে বেতাগী সরকারি কলেজ ও চান্দখালী মোশাররফ হোসেন কলেজে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বেতাগী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ৫৮ জন পাস করেছেন, ফেল করেছেন ১০২ জন। মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৭ জন, অনুত্তীর্ণ ২৫৭ জন। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩১ জন পাসের বিপরীতে ফেল করেছেন ৪৭ জন। তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ২৪৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৪০৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন।
চান্দখালী মোশাররফ হোসেন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ২২ জন উত্তীর্ণ ও ৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। মানবিক বিভাগে পাস করেছেন ৬১ জন, ফেল করেছেন ১৫১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৪ জন উত্তীর্ণ এবং ২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। সব মিলিয়ে কলেজটিতে পাস করেছেন ৯৭ জন, ফেল করেছেন ২০৮ জন।
বিবিচিনি কলেজের ফলাফলও একই ধরনের। এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগে ৪ জন পাস ও ৬ জন ফেল করেছেন। মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ জন, অনুত্তীর্ণ ৪৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ জন পাসের বিপরীতে ফেল করেছেন ২ জন। তিন বিভাগে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৪ জন উত্তীর্ণ এবং ৫৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন।
অন্যদিকে, বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগে ৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন এবং ১৯ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রাপ্ত বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিপরীতে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৮৬ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২২ জন বেশি।
এমন ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রতিষ্ঠানের তদারকি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা এবং কার্যকর শিক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এই বাংলা/এমএস