গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৪২ ঘণ্টা পার হলেও নিখোঁজ ছয় জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও স্থানীয় মাছ ধরার ট্রলারগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গেলেও বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে বিরাজ করছে শোক ও উৎকণ্ঠা।
জানা গেছে, শনিবার রাতে কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দা এমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি ট্রলার ১১ জন জেলেকে নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। রোববার রাত প্রায় ১০টার দিকে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বৈরী আবহাওয়া, প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ ঘটনায় পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন— এমাদুল খাঁ (৪৫), হারুন হাওলাদার (৪৫), ফোরকান সিকদার (৫৫), তার ছেলে সায়েম (২০), আল-আমিন (২২) এবং আক্কাস (২৫)।
বেঁচে ফেরা ট্রলার মালিক এমাদুল সিকদার জানান, ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার পর বেশিরভাগ জেলে ভেতরে আটকা পড়েন। কয়েকজন বের হতে পারলেও সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, প্রায় ছয় ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ জানান, প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায়। পরে তারা ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি বয়া আঁকড়ে ধরে দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মঙ্গলবার গলাচিপার খরিদা, তুলারাম ও দক্ষিণ ইছাদী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের অপেক্ষায় উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। আক্কাসের মা শাহানাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলে ফিরে না এলে ছোট নাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। হারুন হাওলাদারের স্বজনরা জানান, তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাগরে মাছ ধরলেও তিনি আগে কখনো এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হননি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিখোঁজ প্রতিটি জেলের পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সোমবার এমাদুল সিকদারের বাবা গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
কুয়াকাটা নৌপুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনার পর থেকেই কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
টপিক