মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

নলডাঙ্গায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, অনিয়ন্ত্রিত অটোভ্যান চলাচলে উদ্বেগ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি :

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতির কারণে উপজেলার সড়কগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সংঘটিত একাধিক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

নলডাঙ্গা–পাটুল, হাঁপানিয়া–নলডাঙ্গা, নলডাঙ্গা–মাধনগর, নলডাঙ্গা–নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক, বাঁশিলা কালিতলা চার রাস্তার মোড়, মাধনগর বাজার ও বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। কোথাও কোথাও অপ্রাপ্তবয়স্করাও এসব যানবাহন চালাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক কয়েকটি দুর্ঘটনায় শুক্রবার অটোভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাগর (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। এছাড়া পৃথক দুর্ঘটনায় নাটোর প্রেস ক্লাবের সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক সাংবাদিক এম. এম. আরিফুল ইসলাম, জামায়াত নেতা ডা. ফজলুল হক নান্নু, শিক্ষক রওশন আরা, রবিউল ইসলাম, বিএনপির কর্মী রাফিউল কনকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তা নিয়মিত নয়। কয়েকদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

অটোভ্যান চালক মামুন রশিদ বলেন, “সব চালক নিয়ম ভঙ্গ করেন না। তবে কিছু অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের কারণে পুরো অটোভ্যান চালক সমাজের বদনাম হচ্ছে। সরকার প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করলে দুর্ঘটনা কমবে।”

নলডাঙ্গা পৌর বিএনপির নেতা এস এম সান্টু বলেন, “দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নিরাপদ সড়ক চাই, নলডাঙ্গা শাখার সভাপতি লতিফুর রহমান লতিফ বলেন, “অদক্ষ চালক, অবৈধ যানবাহন ও ট্রাফিক আইন না মানাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রশিক্ষিত চালকদের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। সবার জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”

নলডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আবু নওশাদ নোমানী বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এম. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, “একটি বেপরোয়া অটোভ্যানের ধাক্কায় আমার ডান পায়ের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অবৈধ ও বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক বলেন, “চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের নিবন্ধন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে।”

সচেতন নাগরিকদের মতে, দুর্ঘটনা রোধে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ, স্পিড ব্রেকার ও প্রয়োজনীয় সড়কচিহ্ন স্থাপন এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরের আলম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে দুর্ঘটনা আরও কমানো সম্ভব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খাঁন বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও বাড়ানো হবে।”

এই সম্পর্কিত আরো খবর