বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শীতের মৌসুমেও সবজির লাগামহীন দাম, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
ভরা মৌসুমে সবজির বাজার অস্থির / ছবি - এই বাংলা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :

শীতের ভরা মৌসুম, মাঠে বাম্পার ফলন—তারপরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সবজির দাম আকাশছোঁয়া। দুই থেকে তিন গুণ দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্ত ও দিনমজুর পরিবারের।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০ টাকার নিচে কোনো সবজিই মিলছে না। কাঁচা মরিচের দাম কেজি ২০০ টাকায় পৌঁছে গেছে, আবার সরবরাহ সংকটে অনেক সময় পাওয়া যাচ্ছে না।

একজন ক্রেতা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন— “১ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে ঢুকলে মাত্র কয়েক রকম সবজি কিনতেই পকেট ফাঁকা। মাছ-মাংস তো এখন আমাদের নাগালের বাইরেই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এখনো বাজারে ‘কালোবাজারি সিন্ডিকেট’ সক্রিয় রয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

বাজারে সবজির দাম – বেগুন: ৮০–১০০ টাকা, ফুলকপি: ৭০–৯০ টাকা, পালংশাক: ৬০–৮০ টাকা, ঢেঁড়স: ৮০ টাকা, লালশাক: ৫০–৬০ টাকা, কাঁচামরিচ: ২০০ টাকা, বরবটি: ৮০–১০০ টাকা, গাজর: ৯০ টাকা, সিম: ১০০–১২০ টাকা, টমেটো: ১০০–১২০ টাকা, লাউ/চালকুমড়া: ৭০–৯০ টাকা, পুঁইশাক: ৩০–৪০ টাকা (আটি হিসেবে)

এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম ১০০–১৩০ টাকা, রসুন ২০০–২২০ টাকা, আদা ১২০–১৫০ টাকা, ছোলা ১৪০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা—সব মিলিয়ে ভোক্তারা দিশেহারা।

মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা ফুলকপির মতো সবজি প্রতি পিস মাত্র ৩০–৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন, যা বাজারে এসে দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকেরা লোকসানে, আর ভোক্তারা সর্বোচ্চ দামে কিনতে বাধ্য—এ যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের রাজত্ব।

বিক্রেতারা দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেশের পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়া দেখালেও ক্রেতাদের মতে, এটি ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’। ব্যবসায়ীরা বলছেন— “প্রতিদিনই শাকসবজির দাম বাড়ছে। আমাদেরও দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।”

সোনালি মুরগি: ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি: ১৮০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি): ১২০–১৩০ টাকা, পেঁয়াজ (আমদানি): ১১৫ টাকা

ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও প্রশাসনের সক্রিয় মনিটরিং থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ছাত্র জনতার একত্রিত হয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, নয়তো সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

অভাব, দুঃখ, দুর্দশা এখন নাসিরনগরের বহু পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত