মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

তিস্তায় টাস্কফোর্সের অভিযান: ধ্বংস ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন, আতঙ্কে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীরা

ডিমলা (নীলফামারি) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে যৌথ টাস্কফোর্স। অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন-মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। প্রশাসনের এ অভিযানে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় টানা এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-৫১) মেজর জুলকার নাঈন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। এ সময় ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এবং বিজিবির ৬২ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন-মেশিন ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা মালামাল বানির ঘাট বিজিবি বিওপির জিম্মায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে নদীর তলদেশে গভীর খাদ সৃষ্টি, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছিল। একই সঙ্গে তীরবর্তী বসতি, আবাদি জমি, বাঁধ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এর আগে তিস্তা নদী থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নদীভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযান শেষে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর মনোভাব নিয়ে টাস্কফোর্স মাঠে নেমেছে। পাথর উত্তোলনে সরাসরি জড়িত এবং এর পেছনের মদদদাতাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী রক্ষায় এটি কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়; টাস্কফোর্সের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা শুধু অবৈধ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌকা ও যন্ত্রপাতি ধ্বংসের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে এর নেপথ্যে থাকা মূল হোতা ও সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর