কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে ১০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালানো হয় এবং ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দুই দিন পর ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হলেও ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ কারণে হামলার শিকার পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই দুপুরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিল মেম্বারের নেতৃত্বে কোরবান আলী, সেকেন্দার আলীসহ প্রায় ২০০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় জড়ো হয়। পরে বাহাদুর আলীর বাড়িসহ অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, হামলাকারীরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, টিউবওয়েল, আসবাবপত্রসহ প্রায় ২৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
ভুক্তভোগী বাহাদুর আলী বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল, কিন্তু হামলাকারীদের কেউ বাধা দেয়নি। আমাদের চোখের সামনে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া। এখনো প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঘটনার পর বাহাদুর আলী বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় মামলা করেন। মামলায় হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও কাউকে আটক করা হয়নি। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, “বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হামলার ছয় দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
টপিক