বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মা চরের কলাবাগান ধ্বংস করেছে দুর্বৃত্তরা: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
চরভদ্রাসনে পদ্মার চরে বাগানের ১০ হাজার কলাগাছ ধ্বংস করেছে দুর্বৃত্তরা / ছবি - এই বাংলা

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :


ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীঘেঁষা চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের অন্তর্গত চর মোজাফফরপুর মৌজার ছোনেরটেক এলাকায় গড়ে ওঠা বৃহৎ সবরি কলার বাগানে ব্যাপক নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্তের হামলায় প্রায় ১০ হাজার কলাগাছ নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে বাগান মালিকরা জানিয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সরেজমিনে জানা যায়, পদ্মা চরের উঁচু স্থান হওয়ায় এলাকাটি সবরি কলা চাষের উপযোগী। তিনজন মালিক—আলাউদ্দিন ফকির, মোহাম্মদ ফকির ও মান্নান মুন্সি—প্রায় ১০০ একর জমিতে যৌথভাবে বাগানটি গড়ে তুলেছেন। বাগানে রয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কলাগাছ। প্রতিদিন ২০–২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন এবং সেচের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি নলকূপ।

বাগান মালিক আলাউদ্দিন ফকির জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা কলা চাষ করছেন। নতুন মৌসুমে বাগানের পরিধি বাড়ানো হয়, তবে সম্প্রতি বিভিন্ন সময় গরু–ছাগল প্রবেশ করিয়ে এবং রাতের আঁধারে গাছ কেটে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের অনুসারীরা। তিনি জানান, “তিন দফায় গাছ রোপণ করেছি, তিনবারই নষ্ট করেছে। এবার প্রায় ১০ হাজার গাছ শেষ।”

বাগান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শুকিয়ে যাওয়া চারা, কোথাও কাটাছেঁড়া গাছ পড়ে আছে। কিছু স্থানে স্থানীয়দের গরু–ছাগল অবাধে ঢুকে গাছ খেয়ে ফেলছে। অনেকেই তা দেখেও知ら装 করছেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য রহিম হাওলাদার জানান, এলাকাবাসীর জন্য বাগানের ভিতর দিয়ে ১৬ হাত প্রশস্ত পথ চাওয়া হয়েছিল, তবে মালিকরা ৯ হাত পথ দিয়েছেন। এ কারণে কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়ে ক্ষতি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাগান মালিকরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত