রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

পুকুরের মাছ মরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ইশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

ঈশ্বরদীর পার্শ্ববর্তী মৃধাকচুয়া এলাকায় পুকুরের মাছ মরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. শামসুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুকুরের পানি ও মাছ মরে যাওয়ার ঘটনায় নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ডাক্তার মাসুদ রানা। তিনি মৃধাকচুয়া গ্রামের রাজাপুরহাট এলাকার বাসিন্দা।

লিখিত বক্তব্যে ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন, তাঁদের বাড়ির পাশে শামসুল হকের একটি পুকুর রয়েছে। প্রতিবছর পুকুরের পাড় ভেঙে তাঁদের বসতভিটার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুকুরের পাড় সংরক্ষণের জন্য জমি বেঁধে দেওয়ার কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

তাঁদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পুকুরের মাছ মেরে ফেলার অভিযোগে শামসুল হক তাঁদের তিনজনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুলিশ তদন্তে এসে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চলতি বছরও ওই পুকুরে কিছু মাছ মারা যাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আবারও মামলা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুকুরপাড়ের বাসিন্দাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিয়ে নিজের পক্ষে নেওয়ার কথাও বলে বেড়ান বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

লিখিত বক্তব্যে ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন, তাঁরা সাধারণ কৃষক। দিনভর কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পুকুরে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই। অথচ বারবার মামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় তাঁরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পুকুরের পানি পাঁচবার পরীক্ষা করিয়ে তাতে অক্সিজেনের ঘাটতি পাওয়া গেছে। তাই মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশের প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধ, বসতভিটার জমির নিরাপত্তা এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. জিন্নাত আলী মেম্বার, সাইদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, আকসেদ মোল্লা, মো. আফাজ উদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ মফিজ প্রামাণিক, মো. জমশেদ আলী, মো. মফিজ উদ্দিন, মো. তাইজ উদ্দিন ও মো. মজির উদ্দিন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর