জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করতে হচ্ছে কামালের বার্ত্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। ভোরে বিদ্যালয়ে গিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের ক্লাসে অংশ নিতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলায় পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা, নিয়মিত সমাবেশ ও খেলাধুলার সুযোগ নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট। তবে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। আপাতত আরও এক মাস বিকল্প প্রতিষ্ঠানেই চলবে পাঠদান।
বিদ্যালয়টি বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামে অবস্থিত। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ২০০০ সালে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ছাদ থেকে বিকট শব্দ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পাশের কেবি মডেল সেসিপ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিকল্প প্রতিষ্ঠানে সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এরপর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাথমিকের পাঠদান শেষ করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ক্লাসের সময় ৫০ মিনিট থেকে কমিয়ে ৩০ মিনিট করা হয়েছে।
এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভোরে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে খাবার না খেয়েই ক্লাসে অংশ নিতে হচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, এভাবে দীর্ঘদিন পাঠদান চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, বিদ্যালয়টির জন্য অস্থায়ী ঘর নির্মাণে ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় আপাতত বিকল্প প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম জানান, গত দুই মাস ধরে শিক্ষার্থীরা বিকল্প প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আপাতত আরও এক মাস শিক্ষার্থীদের ওই বিকল্প প্রতিষ্ঠানেই পাঠদান করতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেনও বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানিয়েছেন।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের অবসান হবে। শিক্ষার্থীরা ফিরে পাবে নিরাপদ পরিবেশে পূর্ণ সময়ের পাঠদানের সুযোগ।
এই বাংলা/এমএস