রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল করিম মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান এবং বায়ুদূষণের কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় ‘বায়ুদূষণের দুষ্টচক্র নবায়নযোগ্য শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা, গবেষক ও পরিবেশবিদদের উদ্দেশে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও চাহিদার ব্যবধান

মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ও প্রকৃত চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৫২২ মেগাওয়াট হলেও এ সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, গরমের মৌসুমে প্রতিদিন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার ৮০০ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। তবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনিক গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে সীমাবদ্ধ থাকে।

এর ফলে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ও গ্রীষ্মের রাতে, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। কোনো কোনো সময়ে এ ঘাটতি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির চ্যালেঞ্জ

আলোচনা সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এখনো ব্যাপকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মতো জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় জ্বালানি সরবরাহের সংকট, উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবেশদূষণের ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রবন্ধে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অংশ ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ, কয়লার ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, ফার্নেস অয়েলের ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ক্যাপটিভ বিদ্যুতের ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, বিদ্যুৎ আমদানির ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ডিজেলের ২ দশমিক ০৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়।

সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ কীভাবে নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে, তা নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বায়ুদূষণ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর