বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওমরাহর ছুটি নিয়ে সাড়ে চার বছর সৌদিতে, তবুও বহাল শিক্ষক পদে

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আঃ সোবহান

বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক ইফতেদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে মাদ্রাসায় উপস্থিত না থাকলেও ওই শিক্ষকের নাম এখনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তালিকায় রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাদ্রাসার ইফতেদায়ী শিক্ষক মাওলানা আঃ সোবহান। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওমরাহ পালনের কথা জানিয়ে ছুটি নিয়ে সৌদি আরবে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে তিনি সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন।

একজন শিক্ষক দীর্ঘ কয়েক বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও কীভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তালিকায় বহাল রয়েছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যদি অনুপস্থিতির বিষয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে থাকে, তাহলে এত দীর্ঘ সময়েও বিষয়টির প্রশাসনিক নিষ্পত্তি হয়নি কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাসুম বিল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক শুরুতে ওমরাহ পালনের জন্য ছুটি নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন সময়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মাদ্রাসা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষকেও চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন এবং তার নাম শিক্ষক তালিকায় কীভাবে বহাল রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁঠালতলী এলাকায় মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এত অল্প দূরত্বে একাধিক দাখিল মাদ্রাসার প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।

সর্বশেষ দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের কথা জানা গেছে। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং সর্বশেষ দাখিল পরীক্ষার সরকারি ফলাফল যাচাই না করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সামনের মসজিদের অনুদানের টাকা বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আঃ সোবহান আত্মসাৎ করেছেন।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সংকটে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রবাসে চলে যান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা থেকে পাওয়া বেতন দিয়ে তার ঋণের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

তবে মসজিদের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে কোনো নথিপত্র বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্যও সরাসরি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বেতাগী উপজেলা প্রশাসক মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে তিনি মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সুপার তাকে বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন ইফতেদায়ী শিক্ষক ওমরাহ পালনের কথা বলে কীভাবে প্রায় সাড়ে চার বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পরও তার চাকরি ও নাম কীভাবে বহাল রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে কারও সহযোগিতা, প্রশাসনিক গাফিলতি বা নিয়মের ব্যত্যয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর