টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোর ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া (৫০) নামে এক গৃহস্থ নিহত হয়েছেন। এ সময় চোরকে বাধা দিতে গিয়ে আরও দুজন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মজনু মিয়া ওই গ্রামের মৃত বেল্লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ঢালাই মিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। তিনি তিন সন্তানের জনক। পরে স্থানীয় জনতা ছামিনুর মিয়াকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে ছামিনুর মিয়া বারাপুষা গ্রামে মজনু মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে যান। এ সময় গৃহকর্তার ছোট মেয়ে জুলেখা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়ে চোরকে দেখতে পান। পরে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করলে ছামিনুর খড়ের গাদার পেছনে লুকিয়ে পড়েন।
এ সময় মজনু মিয়া তাকে ঝাপটে ধরলে ছামিনুরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাঁর ঘাড় ও গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। প্রতিবেশী আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছামিনুর তাঁদেরও ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ছুরির আঘাতে মজনু মিয়ার ক্যারোটিড আর্টারি কেটে যাওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছামিনুর মিয়াকে আটক করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস