বাবাকে আগেই হারিয়েছেন। আর দুই মাস আগে চিরতরে হারিয়েছেন মাকেও। মাত্র তিন বছরের একমাত্র সন্তানকে বুকে আগলে এখন বিছানায় দিন কাটছে মো. আনোয়ার হোসেনের। দুই হিপের জয়েন্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে ক্রমেই অসহায় হয়ে পড়েছেন এই তরুণ বাবা।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাড়িপাড়া বটতলা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। একসময় একটি কোম্পানিতে চাকরি করে নিজের ও পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল সংসার।
কিন্তু অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় তাঁর জীবনকে বদলে দিয়েছে। নিজের ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ভিটেমাটি ও সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে দুই মাস আগে মায়ের মৃত্যু হলে আরও অসহায় হয়ে পড়েন আনোয়ার।
বর্তমানে দুই হিপের সমস্যা এতটাই গুরুতর যে তাঁর দুই পা শুকিয়ে চিকন হয়ে গেছে এবং তিনি বিছানা থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। তিন বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর।
আনোয়ার হোসেনের অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে যান ‘কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিনিধি দল এবং ‘ভাই বন্ধু ব্লাড ডোনার্স যুব ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি ও সংগঠনের সদস্যরা। তাঁরা আনোয়ারের শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি দেখেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আনোয়ারের দুই হিপে অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। প্রতিটি অস্ত্রোপচারে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে সর্বস্ব হারিয়ে এই বিপুল অর্থের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাঁর পরিবারের নেই।
এ অবস্থায় আনোয়ারের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাঁদের আহ্বান, সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে আনোয়ারের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানো হোক।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা
আনোয়ার হোসেনের চিকিৎসায় সহায়তা পাঠাতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর:
বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৭১৪-৯৪৭৭৫৭ (পার্সোনাল)
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট-বড় যেকোনো সহযোগিতা আনোয়ারের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করতে পারে। তিন বছরের শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এই বাংলা/এমএস