বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিমলায় সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

ডিমলা (নীলফামারি) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় সরকারি অর্থায়নে সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর সড়কটি পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও আগের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে না নিয়েই পুনরায় কাজ শুরুর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিমলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএইচ সড়ক ভায়া শুটিবাড়ি সড়ক সংস্কারকাজে এ ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের অভিযোগ, পুনরায় কাজ শুরুর পরও রাবিশ মিশ্রিত খোয়া, ভাঙা ইটসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে সড়কটির সংস্কারকাজ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা। কাজটি পেয়েছে নীলফামারী সদরের মসজিদপাড়া এলাকার মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজার রহমান সাদ্দাম।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান ও এলজিইডির জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিদর্শনের পর নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ও ভাঙা ইট পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এসব সামগ্রী ব্যবহার করেই পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে পুনরায় সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও রাবিশ মিশ্রিত খোয়া দিয়ে বেজ তৈরির কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সড়কের দুই পাশে রেজিংয়ের ক্ষেত্রেও মানসম্মত নতুন ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ হওয়ার পরও একই ধরনের মালামাল দিয়ে আবার কাজ করায় তারা হতাশ।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। পরিদর্শনে ত্রুটি ধরা পড়লেও কার্যকরভাবে উপকরণ অপসারণ ও মান নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এলজিইডি নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন ও ভালো মানের মালামাল দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমানও একই দাবি করে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অনিয়ম পাওয়ায় আগের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নতুন করে মানসম্মত মালামাল সরবরাহ করে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকৌশলীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাজ পুনরায় শুরুর আগে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা, পুরোনো নিম্নমানের উপকরণ অপসারণ এবং মাননিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রকল্পের মান যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পে ব্যবহৃত খোয়া, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর গুণগত পরীক্ষা, কাজের পরিমাণ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার এবং পূর্বের পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তাই প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ যাচাই করে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর