কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সারের দাবিতে তিন ইউনিয়নে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী ও রামখানা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, সকালে সারের জন্য শত শত কৃষক বেরুবাড়ী বাজারে ডিলার মো. নুর মোহাম্মদ, বামনডাঙ্গা আমতলা বাজারে মো. আদম আলী এবং নাখারগঞ্জ বাজারে ডিলার মো. লাভলু মণ্ডলের গোডাউনের সামনে জড়ো হন।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও বেরুবাড়ী ও নাখারগঞ্জ বাজারে ডিলারেরা গোডাউন না খোলায় কৃষকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে কৃষকেরা জানান। একপর্যায়ে নাখারগঞ্জ বাজারে অটোরিকশায় মাইক বেঁধে মিছিল করেন তারা এবং পরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে বেরুবাড়ীতে ডিলারের গোডাউনের সামনেও বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হোসেন, নাগেশ্বরী থানার ওসি ও সহকারী পুলিশ সুপার পৃথকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ী কপিলের চরের কৃষক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। তিন দিন ধরে সারের জন্য ঘুরলেও সার পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার সকালে গোডাউন বন্ধ এবং ডিলার ও বিএসকে না পেয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি।
মণ্ডলপাড়ার মো. বাবু ইসলাম বলেন, তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তিন দিন ধরে অটো না চালিয়ে সারের জন্য অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন কপিলের চরের শাহাদৎ, হযরত আলী, মণ্ডলপাড়ার মজিবর রহমান, সুলতান মাহমুদ, রিপন, আজিজার মণ্ডলসহ আরও কয়েকজন কৃষক।
তবে বেরুবাড়ী ইউনিয়নের সার ডিলার মো. নুর মোহাম্মদ বলেন, এবার বন্যা না হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। ফলে সারের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনে যতটা সম্ভব কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সোমবার গোডাউনে মাত্র ৪০ বস্তা সার ছিল। বিপরীতে প্রায় ৬০০ কৃষক সার নিতে আসেন। এত অল্প পরিমাণ সার দিয়ে এত কৃষককে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে গোডাউন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের আমতলা মোড়ে ডিলার মো. আদম আলীর গোডাউন খোলা থাকলেও মজুত কম থাকায় বিপুলসংখ্যক কৃষক সার নিতে আসায় বিতরণে জটিলতা দেখা দেয়।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের উপস্থিতিতে গোডাউনে মজুত থাকা ১৪০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০০ বস্তা ডিএপি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বামনডাঙ্গায় মজুত থাকা সার বিতরণ করা হয়েছে। রামখানা ও বেরুবাড়ীতে আরও সার এলে তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে সার সংকট হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে কিছু কৃষকের মধ্যে আগাম সার মজুতের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এ কারণেও চাহিদা বেড়েছে।
নাগেশ্বরী ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিক্ষোভের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস