সমকালের বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে)। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, এর পেছনের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ এবং সিএমইউজের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান বলেন, পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর আগে তাঁর আর্থিক সংকট, পাওনা সার্ভিস বেনিফিট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলক চ্যাটার্জির রেখে যাওয়া নোট, পারিবারিক ও কর্মজীবনের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা বেআইনি আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা এবং চাকরির অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর চাকরি হারালে তাঁদের সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য আইনসঙ্গত পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর ঘটনা সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ পুলক চ্যাটার্জির পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা করেছে বলে তারা মনে করেন। একইভাবে সমকালের সাবেক চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান কাজী আবুল মনসুর ও সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক রুবেল খানের বকেয়া সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করা হয়।
নেতৃবৃন্দের দাবি, কাজী আবুল মনসুর দীর্ঘ আট বছর সমকালে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর চাকরির পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া রুবেল খানও দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে পাওনা পরিশোধ না করার বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রুবেল খান তাঁর একমাত্র কন্যা রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার সময় চাকরিচ্যুত হন বলে তারা উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর পাওনা পরিশোধ না করাকে দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন নেতৃবৃন্দ। তাঁরা কাজী আবুল মনসুর ও রুবেল খানের পাওনা নির্ধারণ করে দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও সিএমইউজের নেতারা বলেন, “পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর কারণ তদন্ত এবং কাজী আবুল মনসুর ও রুবেল খানের বকেয়া পাওনা পরিশোধ—দুটি বিষয়ই সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”
তাঁরা বলেন, কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা, সার্ভিস বেনিফিট ও চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, কাজী আবুল মনসুর ও রুবেল খানের বকেয়া সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ও পাওনা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এই বাংলা/এমএস