খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মারমা অধ্যুষিত ধর্মঘর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাবে, এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একটি চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনটি দোকানই সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আথুইশে মারমা জানান, আগুনে দোকানের মালামালসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। তাঁর দোকানে থাকা ওষুধসহ অন্যান্য মালামালে প্রায় ৫৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সকাল ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ধর্মঘর গ্রামের কারবারি জানান, আগুনে তিনটি দোকান পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনটি দোকানে মোট প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মানিকছড়ি থানার এএসআই মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা পাশের চায়ের দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য মংথুই মেম্বার বলেন, মানিকছড়ি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলেও এখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন নেই। অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত সাড়া দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মানিকছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুনের সূত্রপাতের কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস