নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কুমারখালী বাজার থেকে ঘাগড়া বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান MHBSTPL-JEBI-এর বিরুদ্ধে। ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে নাম্বারবিহীন ইটসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ১৫ কিলোমিটার RCC সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে MHBSTPL-JEBI। মাঠপর্যায়ে কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন ঠিকাদার আল মুত্তাহিম বিল্লাহ মিশুক, কুমার দত্ত ও JEBI গ্রুপের ঠিকাদার সারওয়ার জাহান। নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করছে রাজশাহীর মি. রবি কনস্ট্রাকশন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ। তাদের অভিযোগ, রাস্তার এজিং ও সাব-বেজ নির্মাণে নাম্বারবিহীন ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নকশা অনুযায়ী ইট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যথাযথ মান বজায় রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। ভালো মানের ইট ও পাথরের পরিবর্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রীর যথাযথ পরীক্ষা করা হচ্ছে না। পুরোনো রাস্তা যথাযথভাবে অপসারণ এবং রোলার দিয়ে প্রয়োজনীয় কম্প্যাকশন না করেই নতুন কাজ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা। এসব কারণে সড়কটি নির্মাণের পর দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কাজের ধীরগতিতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, আগের প্রকৌশলী মিশুক দত্তের সময়েও কাজের গতি ধীর ছিল। বর্তমানে প্রকৌশলী শহিদুল্লাহর তত্ত্বাবধানেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকা বিল উত্তোলন হলেও মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি সে তুলনায় কম।
সড়কটির প্রস্থ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কটি পর্যাপ্ত প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে রিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন চালক জানান, সরু সড়কে বিপরীত দিক থেকে যানবাহন এলে পাশ কাটিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন, শাহীন, ওমর, বিলকিস, নুরজাহান, ফারজানা ও কৃষক সলিমুল্লাহসহ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নিয়ে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হলে বর্ষায় সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই, ব্যবহৃত উপকরণের পরীক্ষা এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নির্মাণকাজের মান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও কারিগরি পরীক্ষা প্রয়োজন।
এই বাংলা/এমএস