শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

শ্যামগঞ্জে সার ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চার লাইসেন্স

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে সার ডিলার মানিক ফকিরের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ সার বিক্রি ও একাই চারটি সার ডিলার লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার সময়মতো না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে সরকারি দামের সার পাওয়া যায় না। পরে অতিরিক্ত দামে একই সার বিক্রি করা হয়। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ বিভিন্ন সার বিক্রির পাশাপাশি সরকারি নিয়মে নিষিদ্ধ কিছু পণ্যও দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কার্ড দেখিয়েও সময়মতো সার পাই না। অথচ মানিক ফকিরের দোকানে গেলে বেশি টাকা দিলে সার পাওয়া যায়। সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হয়।’

আরেক কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘একজনের নামে চারটি লাইসেন্স থাকলে অন্য ডিলাররা সার পাবে কীভাবে? এ কারণে শ্যামগঞ্জের আশপাশের ৮-১০টি গ্রামের কৃষক তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।’

এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চার লাইসেন্স?

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সার ডিলারশিপের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির একাধিক লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে লাইসেন্স নিয়ে মানিক ফকির নিজেই সেগুলো পরিচালনা করছেন।

তবে চারটি লাইসেন্সের প্রকৃত মালিকানা, অনুমোদন ও সেগুলোর কার্যক্রম একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের দাবি, এ সময় কর্মকর্তাকে কয়েকজনের সঙ্গে খাবার খেতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তবে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের করা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তের দাবি

এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে মানিক ফকিরের গোডাউন, সার ডিলার লাইসেন্স, বরাদ্দের হিসাব ও বিক্রির নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

তাদের আশঙ্কা, সার বিতরণে অনিয়ম চলতে থাকলে আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের সংকট আরও বাড়তে পারে।

মানিক ফকিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর