বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন

পাবনায় লিগ্যাল এইড কমিটি ও বিচারকদের সঙ্গে আদিবাসী প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

ইশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাবনায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, বিচারক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (CSO) এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, পাবনার বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মো. নূরে আলম এবং পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব সিনিয়র সিভিল জজ মো. আজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সূচনা বক্তব্য দেন এবং প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সদস্য সচিব মো. আজহারুল ইসলাম।

মতবিনিময় সভায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা, আইনগত সহায়তা পাওয়ার জটিলতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ভাঙ্গুড়ার শ্রীবাস চন্দ্র মুরারী, আটঘরিয়ার সত্য সরকার ও ঈশ্বরদীর লিপি বিশ্বাস জমিজমা সংক্রান্ত মামলা নিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা জানান। তাঁরা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সহজে ও দ্রুত আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রধান অতিথি মো. আখতারুজ্জামান আদিবাসী প্রতিনিধিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আইনগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতা, সামাজিক অবস্থান, জাতিগত পরিচয় কিংবা অন্য কোনো কারণে যেন কেউ আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে আদিবাসী নারী, শিশু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি লিগ্যাল এইড সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, সরকারি আইনগত সহায়তার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জনগণের মধ্যে লিগ্যাল এইড বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং ভুক্তভোগীদের যথাযথ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ব্রেডের কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. আশিকুর রহমান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে লিগ্যাল এইড বিষয়ে অজ্ঞতা দূর করা এবং তাঁদের সহায়তায় বিচার বিভাগের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার ও আইনগত সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উঠে আসে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর