শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

কথা ছিল ঈদে বাড়ি এসে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকবেন, ফিরলেন লাশ হয়ে

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনে বাবা-মাকে কথা দিয়েছিলেন, আগামী ঈদের আগেই বাড়ি ফিরবেন। দেশে ফিরে বিয়েরও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই কথা আর রাখা হলো না রবিউল ইসলামের। বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে।

বৃহস্পতিবার রাতে রবিউলের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রামে। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা ভাটোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রবিউলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে একজন ছিলেন রবিউল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিহত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে তাঁদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে রবিউল নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে সাতজন নওগাঁর আত্রাই এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।

শুক্রবার সকালে রবিউলের মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা হলে আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামের মানুষের ভিড় জমে যায়। ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা আশরাফুল ইসলাম। আর ঘরের বিছানায় শুয়ে ছেলের স্মৃতি হাতড়ে বিলাপ করছিলেন মা। কান্নার একপর্যায়ে তিনি কয়েকবার জ্ঞানও হারান।

রবিউলের বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শেষ পর্যন্ত ছেলের লাশ পেয়েছি, এটিই আমার কাছে বড় সান্ত্বনা। অন্তত এখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছেলের জন্য দোয়া করতে পারব।”

তিনি জানান, ধার-দেনা করে রবিউলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে কিছুদিন অবৈধভাবে থাকার পর সম্প্রতি তার বৈধ কাগজপত্র হয়। উপার্জনের টাকা দিয়ে পরিবারের কিছু ঋণও পরিশোধ করা হয়েছিল। ছেলের উপার্জনে ঘরবাড়ির কাজও শুরু করেছিলেন তারা।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঘরের কাজ শেষ হলে ঈদের আগে রবিউলের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার শুরু করার পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ডে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

রবিউল ও তার ভাই একই কারখানায় কাজ করতেন। সৌভাগ্যক্রমে তার ভাই অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে গেছেন। প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন রবিউল।

এদিকে সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার আরও দুজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রথম পর্যায়ে রবিউল ইসলামের মরদেহ দেশে এসেছে।

খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, “রবিউল শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিলেন। গ্রামের মানুষ তাকে ভালোবাসতেন। তার মৃত্যুর খবর সবাইকে ব্যথিত করেছে। মরদেহ বাড়িতে আসার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই রবিউলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। সৌদি আরবে নিহত নলডাঙ্গার আরও দুজনের মরদেহ শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর