বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন

নাটোরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২০ জনের নামসহ ২০০–২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর পর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ৮-৯ বছর বয়সী দুই শিশু লাম ও ফারহান পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে অপমৃত্যু মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব ঘটনাস্থলে যান। পরে নিহত লামের বাড়িতে তাঁর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তাঁরা।

এরপর নিহত ফারহানের মরদেহ চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়েছে জানতে পেরে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে ফারহানের মরদেহেরও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে লামের মরদেহও ওই মাঠে নেওয়া হলে দুই শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এজাহারে বলা হয়, জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ অভিভাবকদের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর এবং বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে অবহিত করার প্রস্তাব দেন এসআই আবুল বাশার। এতে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ সদস্যরা দোকান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে এক ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে এসআই আবুল বাশারের মাথায় আঘাত করেন। পরে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

পরে তাঁরা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও যাওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই সদস্যকে উদ্ধার করে। পরে আহত এসআই আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, দুই শিশুর জানাজার সময় পুলিশ সদস্যরা কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি ও পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধরের শিকার হন।

ঘটনার পর এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবকে গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বাদী এসআই এমদাদুল হক বলেন, “বুধবার রাতে ডিউটি শেষে থানায় ফিরে এজাহার জমা দিয়েছি।”

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর