কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অফিসার্স ক্লাবের সামনে কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাডমিন্টন খেলা চলছে। খেলাধুলার জন্য একাধিক বৈদ্যুতিক বাতি দীর্ঘ সময় জ্বালিয়ে রাখায় সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে ব্যাডমিন্টন খেলা হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ যখন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন, তখন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মালেক, মো. জসিম মিয়া ও মো. আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত নিয়মিতভাবে আলো জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। এতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হলেও একজন সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয় বা সরকারি স্থাপনা এলাকায় এভাবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল মিয়া বলেন, “আমরা গ্রাহকরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। গরমে ঘুমাতে কষ্ট হয়। লোডশেডিংয়ের কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা বিদ্যুৎ অপচয় করছেন।”
চিলমারী উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. মঈনুল ইসলাম মানিক বলেন, “দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ইউএনও স্যার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এই গরমে ব্যাডমিন্টন খেলছেন। বিষয়টি দুঃখজনক।”
চিলমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু সাইদ হোসেন পাখি বলেন, “সাধারণ মানুষ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “অনেকেই বিদ্যুৎ অপচয় করছেন, তাতে ক্ষতি নেই। ইউএনও খেলেছে, তাতে ক্ষতি হলো। খেলা শরীরের জন্য ভালো। একটু তো খেলবেই।”
তবে সরকারি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় যাচাই ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস