মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

রাতের আঁধারে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ, তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর রাতের আঁধারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে ওষুধ পোড়ানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আপত্তি জানান। পরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে এলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না। বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার আশায় হাসপাতালে আসা রোগীদের অনেককেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। অথচ হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে কয়েক বস্তা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে এমন খবর পেয়ে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. আল আমিনসহ কয়েকজন সেখানে যান। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ওষুধ পোড়ানোর কারণ জানতে চান। এ নিয়ে একপর্যায়ে সেখানে হইচই শুরু হয়।

মো. আল আমিন বলেন, “রাতের আঁধারে তিন বস্তা সরকারি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে তিন বস্তা ওষুধ পড়ে থাকতে দেখি।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

তবে ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু পুরোনো কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ সময় কিছু পুরোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ওষুধ করোনাকালীন সময়ের বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) (ভারপ্রাপ্ত) মো. সায়েকুল হাসান খান ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন।

ইউএনও বলেন, “বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

তদন্ত কমিটি গঠন

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “এভাবে ওষুধ পোড়ানোর কোনো নিয়ম নেই।” এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত দল মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থে কেনা ওষুধ কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো, সেগুলো যথাযথ নিয়মে সংরক্ষণ ও ধ্বংস করা হয়েছিল কি না এবং রাতে হাসপাতাল চত্বরে ওষুধ পোড়ানোর কারণ কী—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর