বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জে অবৈধ জাল তৈরির কারখানায় অভিযান, ৪৪ লাখ টাকার জাল জব্দ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল, জাল তৈরির মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। এ সময় এক সহযোগীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মধ্যরাজিব সয়ারকাজী গ্রামে একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬৮০টি চায়না দুয়ারী জাল, জাল তৈরির ৪টি মেশিন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।

অভিযানকালে জাল তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি ডায়াস ধ্বংস করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় কারখানার এক সহযোগীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এছাড়া অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৮০টি অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কারখানার মূল মালিক ও তার এক সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, জব্দকৃত জাল থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়