বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার জাগিরপাড়া স্কুল এন্ড কলেজে সরকারি নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে আগাম ছুটি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের নির্দেশে বিদ্যালয়টি প্রায় প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অনেক সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও নিয়মিতভাবে দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১৩ মে) সরেজমিনে জাগিরপাড়া স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো পরিবেশ চোখে পড়েনি। এমনকি জাতীয় পতাকাও নামানো অবস্থায় দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মাঝে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ সময় প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন শিক্ষক— একজন পুরুষ ও দুইজন নারী শিক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হলেও জাগিরপাড়া স্কুল এন্ড কলেজে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই আগাম ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে এবং অভিভাবকরাও চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “স্কুল কখন ছুটি দিবো এটা আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আইনে আমাদের এই সুযোগ আছে, ইচ্ছা করলে আমরা আগে ছুটি দিতে পারি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূইয়া বলেন, “আমি অফিসের কাজে ঢাকায় আছি। এভাবে স্কুল ছুটি দেওয়া যায় না। সংরক্ষিত ছুটি দিলেও যথাযথ অনুমতি নিয়ে ছুটি দিতে হবে। এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই।”
ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

