টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউপিসি থেকে রাথুরা হয়ে নাটাং পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত প্রস্থের তুলনায় সড়কটি কয়েক ইঞ্চি কম নির্মাণের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে নিম্নমানের ইট দিয়ে এজিংয়ের কাজ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও তা ৯ থেকে সাড়ে ৯ ফুট পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় মোকনা ইউপিসি থেকে রাথুরা হয়ে নাটাং পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ‘থ্রি ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার ৩৮৪ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় এজিংও যথাযথভাবে করা হয়নি। এসব অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কাশেম ও বাদল বলেন, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় মাটিও নেই। এর পাশাপাশি নির্ধারিত প্রস্থের তুলনায় ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি কম করে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এসেছে। সিডিউলে যে মান ও মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে অনুযায়ীই কাজ করার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. শাহআলম খান ওরফে বাবুল বলেন, ‘কিছু নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল। সেগুলো সরিয়ে ভালো মানের ইট দিয়ে কাজ করা হবে। আর রাস্তার প্রস্থ কম হওয়ার বিষয়টি যদি মিস্ত্রিদের ভুলের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধন করা হবে। নির্ধারিত মাপের চেয়ে রাস্তা কম হলে কর্তৃপক্ষ বিল দেবে না। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে কম করার কোনো সুযোগ নেই।’
নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, ‘নিম্নমানের ইট ব্যবহার ও রাস্তার প্রস্থ কম করার অভিযোগ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের কাজ যেন নির্ধারিত নকশা, মাপ ও মান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।
এই বাংলা/এমএস