রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

পাবনায় সমতলের আদিবাসী নারী সম্মেলন, আইনগত অধিকার জানার আহ্বান

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

পাবনায় সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার, আইনগত সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আদিবাসী নারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রোববার সকালে পাবনা শহরের বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’, ‘ব্রেড’, ‘বাঁচতে চাই’ ও ‘এসডিকেএস’ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

আদিবাসী নেত্রী অনিতা রানী মুরাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো. আজহারুল ইসলাম, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিলাল উদ্দিন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন, ‘আমরাই পারি’ জোটের জেলা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা।

জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ভরণপোষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি লিগ্যাল এইডের সহায়তা নিতে পারেন।

তিনি আদিবাসী নারীদের নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে জানার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সেই আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর প্রোগ্রাম অফিসার নাজমুস সাকিব। কবি ও আবৃত্তিশিল্পী অঞ্জলী ভৌমিকের উপস্থাপনায় এবং সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর পরিচালনায় সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ‘বাঁচতে চাই’ সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু, ব্রেডের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, এসডিকেএসের নাসির উদ্দিন ময়নুল, সুচিতা সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

আদিবাসী নারীদের মধ্যে বক্তব্য দেন অনিতা রানী মাহাতো, লিপি রানী বিশ্বাস ও শান্তি রানী মাহাতোসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীরা পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হন। অনেক সময় অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও আইনগত প্রতিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় তারা যথাযথ বিচার পান না। তাই সরকারি আইনগত সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী আইন, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সচেতন করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, আদিবাসী পরিচয়ের কারণে কোনো নারী ন্যায়বিচার বা আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে সরকারি দপ্তর, আইনগত সহায়তা কেন্দ্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে নারীদের উৎসাহিত করতে হবে।

সম্মেলনে বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী নারী প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের একটি পর্যায়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনসংগ্রাম নিয়ে সাংবাদিক কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর লেখা দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী অঞ্জলী ভৌমিক। কবিতার মাধ্যমে আদিবাসী মানুষের অধিকার, বৈষম্য ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হলে অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

সম্মেলনের শেষপর্যায়ে বক্তারা সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি নারী নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং প্রয়োজনের সময় প্রত্যেক আদিবাসী নারী যেন বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর