শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

নানা আয়োজনে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি :

গভীর শ্রদ্ধা, স্মরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’।

বুধবার (৫ আগস্ট) ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জুলাই শহীদদের স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে তাদের চিত্রকর্মে তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল ফটো কনটেস্টেও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের আলোকচিত্রে উঠে আসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, দেশপ্রেম এবং সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়।

বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অনুষ্ঠানে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য এবং শহীদদের আত্মত্যাগ নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের আদর্শ ধারণ করে জ্ঞান, মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও সততার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর