শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন

মনপুরায় বিদ্যুৎ সেবায় চরম অনিয়ম, রাতভর অন্ধকারে শতাধিক পরিবার

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে জনদুর্ভোগ / ছবি - এই বাংলা

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি :

 

ভোলার মনপুরা উপজেলার ০৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত ওয়েস্টার্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের বেলায় সীমিত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ দিন রাতভর বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শত শত গ্রাহক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০২০ সালে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ওয়েনস্টান বিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। শুরু থেকেই গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি মিটারে মাসিক ৭০ টাকা করে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় কয়েকশ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা পেলেও নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কিছু সময় বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও রাতের বেলায় প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, “প্রতিমাসে ৭০ টাকা করে সার্ভিস চার্জ দিচ্ছি, কিন্তু রাতের বেলায় প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক সময় পুরো রাত অন্ধকারে থাকতে হয়।”

আরেক গ্রাহক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “কখনো বলা হয় ব্যাটারি নষ্ট, আবার কখনো বলা হয় বিদ্যুৎ জমা নেই। নতুন জেনারেটর আনার কথা বলা হলেও কয়েকদিন পর সেটিও নষ্ট হয়ে যায়।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন জেনারেটর আনার পর কয়েকদিন রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে জানানো হয়, ইঞ্জিনিয়ার এসে মেরামত করলে পুনরায় বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতে দোকান চালু রাখতে পারছেন না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গ্রাহকদের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর