বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাব্য সংকটে ব্রহ্মপুত্রে চিলমারী-রৌমারী রুটে ১০ দিন ফেরি বন্ধ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য সংকট তীব্র হওয়ায় চিলমারী-রৌমারী ফেরি রুটে টানা ১০ দিন ধরে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্যবাহী যানবাহনসহ দূরপাল্লার পরিবহনগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারী ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, নদীর তলদেশে নাব্য কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচলের চ্যানেল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কয়েক ধাপে খননকাজ শুরু করলেও স্থানীয়দের বাধার মুখে ড্রেজিং বন্ধ রয়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাড়ঘেঁষে ড্রেজিং করায় ডানতীর সুরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্লক দেবে গেছে। এতে নদী ভাঙনের আতঙ্ক আরও বাড়ছে। তারা দাবি করেন, দূরত্ব বজায় রেখে খনন করলে এ ধরনের সমস্যা হতো না।

স্থানীয়রা—মমিন, সাইফুল ইসলাম, রাবেয়া ও অহিতন বেগম জানান, ভুলপদ্ধতিতে খনন করায় তীররক্ষা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, নদী খনন দরকার, তবে সেটি যেন জনবসতির ক্ষতি ডেকে না আনে।

বিআইডব্লিউটিএর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে নদ খনন জরুরি হয়। কিন্তু কয়েকটি পয়েন্টে বাধার কারণে কাজ বন্ধ। মঙ্গলবার রাতে বাগুয়ার চর এলাকার বাসিন্দারা ট্রলারযোগে এসে ড্রেজিং বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান বলেন, ১৭ নভেম্বর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প রুট খননের কাজ চলছে, শেষ হলেই ফেরি চালু হবে।

চিলমারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, স্থানীয়দের আশঙ্কা পুরোপুরি সত্য না-ও হতে পারে। তবে যদি তীররক্ষা কাঠামোর ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত