শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন

সুন্দরবনে বনরক্ষীদের অভিযানে হরিণ শিকারের ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলারসহ চার বস্তা হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৬ থেকে ৭ জন শিকারি পালিয়ে যায়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল দলের অভিযানে এসব ফাঁদ জব্দ করা হয়।

বন বিভাগ জানায়, সন্দেহভাজন একটি ট্রলারকে থামার সংকেত দিলে ট্রলারে থাকা ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি সেটি বনের পাড়ে ভিড়িয়ে সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে চার বস্তায় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ‘মালা ফাঁদ’ পাওয়া যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে অবৈধভাবে হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

বন বিভাগ আরও জানায়, অভিযানের সময় সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে বনরক্ষীরা সেটি দ্রুত নিরাপদে শেলারচরে নিয়ে আসেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি ফাঁদগুলো উদ্ধার করা হয়। ট্রলারে বরফসহ শিকারের অন্যান্য সরঞ্জামও ছিল বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর