বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান আটক

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

 

সুন্দরবনের কয়রা এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে সুন্দরবনের ময়দাফেসা খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বনদস্যুদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রবিউল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা তাকে আটক করেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ইলিয়াস বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর রবিউল ইসলাম বাহিনীটি পুনর্গঠন করেন। ইলিয়াস বাহিনীর সাবেক প্রধানের বোনের স্বামী হওয়ায় দলটি স্থানীয়ভাবে ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।

অভিযোগ রয়েছে, বাহিনীটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এতে স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের ভেতরে গুলিবিনিময় ও একজন বনদস্যু আটকের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে জেনেছেন। তবে অভিযানটি কোস্ট গার্ড পরিচালনা করায় এ বিষয়ে থানায় এখনো বিস্তারিত তথ্য বা নথি পৌঁছায়নি।

এদিকে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকেও এ অভিযান নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার, অন্য কোনো দস্যু পালিয়ে গেছে কি না বা অভিযানের অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আশা, রবিউল ইসলামের আটকের মাধ্যমে সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও অপরাধচক্র সম্পূর্ণ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়