বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রানী রাসমণি ঘাটে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগে চসিকের উচ্ছেদ অভিযান

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আওতাধীন পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিমে অবস্থিত রানী রাসমণি ঘাটে কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাশ।

চসিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জেলেদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে রানী রাসমণি ঘাট ইজারা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ঘাট থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বও কাউকে প্রদান করা হয়নি। কিন্তু একটি চক্র সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে ঘাটে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি এ বিষয়ে স্থানীয়দের মানববন্ধনের পর মেয়রের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ঘাট এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত একটি অস্থায়ী অফিস ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনা ব্যবহার করে একটি চক্র ঘাটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ আদায় করছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নামে টাঙানো অবৈধ ব্যানার অপসারণ করা হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উচ্ছেদ অভিযানে দোকান নির্মাণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা অবৈধ কাঠামো ও ভিত্তি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২১৮টি বাঁশ, ২০টি ছোট টিনের শিট, ২০টি টিন, একটি টেবিল, চারটি চেয়ার, একটি ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল।

আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এ ঘাট কাউকে ইজারা দেয়নি। তাই কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে এখানে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে ঘাটটির ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়