বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূরুঙ্গামারীতে গ্রীনহাউজে অবৈধ গাঁজা চাষের অভিযোগ, অর্ধশতাধিক গাছ উদ্ধার

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রামে গ্রীনহাউজ (তাপপ্রতিরোধী তারজালি বেষ্টনী) পদ্ধতিতে অবৈধভাবে গাঁজা চাষের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় গাঁজা চাষে ব্যবহৃত বিশেষভাবে নির্মিত তাপমাত্রা ও বৃষ্টি প্রতিরোধী বেষ্টনীও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুনতাসির মামুন মুনের উপস্থিতিতে থানার একটি দল দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রামের একটি সুপারি বাগানে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, সুপারি বাগানের ভেতরে গ্রীনহাউজ পদ্ধতিতে অত্যন্ত যত্নসহকারে গাঁজা গাছের আবাদ করা হচ্ছিল। অভিযানকালে অর্ধশতাধিক গাঁজা গাছ এবং চাষাবাদে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (৫০) এবং তার ছেলে মো. রুবেল হোসেন (২৫)-এর নাম উল্লেখ করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় তারা সীমান্তের কাঁটাতারের নিচ দিয়ে থাকা ড্রেনেজ লাইন ব্যবহার করে ভারতের দিকে পালিয়ে যান।

উদ্ধার করা গাঁজা গাছ ও অন্যান্য সরঞ্জাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক কারবারিরা ভারতীয় গাঁজার বিকল্প বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে গাঁজা চাষের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচার রোধে নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়