ফরিদপুরের নগরকান্দায় কেরামত আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতন এবং ইন্স্যুরেন্সের নাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ও তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী সাখাওয়াত হোসেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাটি লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ফরিদপুরের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি দাবি করেন, কেরামত আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
আবেদনে কেরামত আলীকে সাবেক সংসদ সদস্য লাবু চৌধুরীর অনুসারী এবং নগরকান্দা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাবার নাম আলম চকিদার। অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি জায়গা দখলের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, ইন্স্যুরেন্সের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন কেরামত আলী। এতে একাধিক গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত আবেদনে আরও দাবি করা হয়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় কেরামত আলী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তবে সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী এলাকায় অবস্থান করে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ছাড়া বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত, তাঁকে গ্রেপ্তার এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন।
অভিযোগের সমর্থনে চলমান মামলার কাগজপত্রের ফটোকপি ও অডিও কলের রেকর্ড আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেরামত আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ প্রশাসনের তদন্তের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই বাংলা/এমএস