বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতা বিএম ডালিমকে ঘিরে মামলা-অভিযোগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতা বিএম ডালিমকে ঘিরে একের পর এক মামলা ও অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি পুরোনো হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি তাকে চাঁদাবাজির একটি মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর বাইরে এক নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের দাবি ও প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএম ডালিম সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর কাঁচপুর এলাকায় লিটন নামে এক ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় মামলা করা হয়। মামলায় মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই মামলায় বিএম ডালিমকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। দীর্ঘ সময় পর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে বিএম ডালিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

গত ২৫ আগস্ট হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন বিএম ডালিম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে আরও একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে, এক নারীর পক্ষ থেকে বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে বিয়ের দাবি ও প্রতারণার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আরও যাচাই প্রয়োজন।

বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে বিএম ডালিমকে দোষী বলা যাচ্ছে না। তবে পুরোনো হত্যা মামলায় আসামি হওয়া, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং ব্যক্তিগত অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়