বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক পিস কনফারেন্স: ঘৃণা-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঘৃণা, উগ্রবাদ ও সহিংসতার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও শান্তিকর্মীরা। একই সঙ্গে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস ছড়ানো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওজন পার্কে গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘পিস কনফারেন্স’-এ এসব বক্তব্য উঠে আসে। স্থানীয় মাইজভাণ্ডারী অনুসারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসূল (ﷺ), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফ এবং সুফি ইউনিটি ফর ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি (SUIS)-এর প্রেসিডেন্ট হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ঘৃণা ও সহিংসতা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধই টেকসই শান্তির ভিত্তি। আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী-রাসূল (আ.) মানবজাতিকে ভালোবাসা, ন্যায়বিচার, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ আজ কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে ঘৃণা, বিভাজন ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। এটি শুধু ধর্মের অপমান নয়, সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের যেখানেই নিরীহ মানুষের ওপর যুদ্ধ, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, বর্ণবিদ্বেষ কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটুক না কেন, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মানবতার দায়িত্ব। শান্তি কখনো অস্ত্রের শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না; ন্যায়বিচার, সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তিনি ধর্মকে বিভেদের হাতিয়ার নয়, মানবকল্যাণের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করে।

সভাপতির বক্তব্যে খলিফা মোহাম্মদ কোরবান আলী বলেন, “মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মূল ভিত্তিই হচ্ছে ভালোবাসা, মানবসেবা ও সম্প্রীতি। এই শিক্ষা সমাজে যত বিস্তৃত হবে, উগ্রবাদ ও বিভাজনের স্থান তত সংকুচিত হবে।”

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, ঘৃণার রাজনীতি ও সহিংসতা মোকাবিলায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কোনো বিকল্প নেই। তারা শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক নেতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ হিরুসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা ও মাইজভাণ্ডারী অনুসারীরা।

সম্মেলনের শেষপর্বে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থিতিশীলতা, মানবকল্যাণ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়