বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত পরিবেশের প্রত্যাশা, আত্মসমর্পণ ৪ বাহিনীর ৫২ সদস্যের

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করা চারটি বনদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। অস্ত্রসহ তাদের আত্মসমর্পণের ঘটনায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও বনজীবীদের জীবিকা নির্বিঘ্ন হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) চারটি সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র‍্যাবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার বাহিনীর প্রধানসহ সদস্যদের অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের ঘটনায় সুন্দরবনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনে দস্যুদের কর্মকাণ্ড চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দস্যু জীবনের অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। দস্যুদের ভয়ে অনেক বনজীবী বনে প্রবেশ করতে ভয় পেতেন। এতে তাদের জীবিকা ও পরিবারের আয়-রোজগারও ব্যাহত হতো।

বনজীবীরা বলছেন, দস্যুদের আধিপত্য কমে আসায় তারা সুন্দরবনে নিরাপদে প্রবেশ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দস্যুতা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আত্মসমর্পণকারীদের যথাযথ পুনর্বাসন প্রয়োজন।

র‍্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়াও চলবে। পাশাপাশি সুন্দরবনে নতুন করে কোনো দস্যুচক্র যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এমন সময়ে চার বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের ঘটনায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও পর্যটন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সুন্দরবনকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ রাখতে আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন, বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বনের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়